সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন

চেয়ারম্যানের নির্দেশে বৃদ্ধাকে বেঁধে রেখে ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেল চৌকিদার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত জেরে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে এক অসহায় বৃদ্ধা আবিরন বেওয়া (৫৬) কে বাঁশের সাথে  বেঁধে রেখে ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেল চৌকিদাররা। এ সময় ওই বৃদ্ধা আবিরন বেওয়াকে পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়।
২২ এপ্রিল রোববার দুপুরে আহত বৃদ্ধা আবিরন বেওয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পাটগ্রাম থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিশ্চিত করেছেন। তিনি বিরলুপ্ত ছিট জমগ্রাম এলাকার মৃত আঃ সামাদের স্ত্রী।
এ ঘটনায় জমির মালিক আবু সাঈদের স্ত্রী আয়শা বেগম ও তার শিশু সন্তান ইয়াসিনকে নিয়ে রাত থেকে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।
এর আগে শনিবার সকালে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপির ছিট জমগ্রাম এলাকায় বাউরা ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার দলবল নিয়ে বৃদ্ধা আবিরন বেওয়াকে বাঁশের সাথে বেঁধে রেখে ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউপির বিলুপ্ত ছিট জমগ্রাম এলাকার মৃত আঃ সামাদের ছেলে আবু সাঈদ একই গ্রামের মৃত মতিয়র রহমানে ছেলে শাহিন মিয়ার কাছ থেকে তিন বছর আগে ৭ শতক জমি ক্রয় করেন। ক্রয় সুত্রে বসতঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন তারা। কিছু দিন যাওয়ার পর শাহিন মিয়ার অন্য দাগের ৭ শতক জমি বিক্রয় করছেন বলে ক্রেতা আবু সাঈদের নিকট দাবী করেন এবং জমিতে বসতঘর উচ্ছেদ করার হুমকি দেন। এ ঘটনায় আবু সাঈদ বসতবাড়ি রক্ষায় আদালতে একটি মামলা দায়েরও করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নারগিস আক্তার জানান, শনিবার সকালে হঠাৎ ইউনিয়ন পরিষদের চারজন চৌকিদারসহ ও কয়েকজন লোক বাড়িতে গিয়ে কোন কথা না বলিয়ে ঘর ভাঙ্গা শুরু করেন। এ সময় আবু সাঈদের মা বৃদ্ধা আবিরন বেওয়া তাদের বাঁধা দিলে তাকে বাঁশের সাথে বেঁধে মারপিট করেন। পরে ঘর ভেঙ্গে ট্রাক্টরে করে নিয়ে যায়।
আবু সাঈদের স্ত্রী আয়শা বেগম (২০) বলেন, শ্বাশুরীকে রেখে বাহিরে গেলে তারা পরিকল্পপিক ভাবে চকিদার ও শাহিনের লোকজন ঘরের জিনিসপত্র, টাকা পয়সা এবং ঘর ভেঙ্গে নিয়ে যায়।
অভিযুক্ত শাহিন মিয়া বলেন, আমি ঘর ভাঙ্গিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌকিদাররা ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গেছে। এ বিষয় আমি ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ করেছি।
আবু সাঈদ বলেন, আমার আহত মা কে নিয়ে আমি রংপুর হাসপাতালে আছি। মা আমার একটু সুস্থ্য হলেই আমি আদালতে গিয়ে মামলা দায়ের করব।
বাউরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বসুনিয়া দুলাল জানান, এর আগে ওই পরিবারকে বাড়ি না করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। পরিষদের চৌকিদাররা তাদের ঘরের মালামাল ইউনিয়র পরিষদের জমা দিয়েছে। তবে বৃদ্ধাকে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
পাটগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক ফিরোজ কবির জানান, ঘটনাটি আমার জানা নেই। আমি এক দিনের জন্য দায়িত্বে আছি মাত্র। তবে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com